দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বের ১১০টি দেশের ব্যবহারকারীদের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে অ্যাপল।
বৃহস্পতিবার এসব সতর্কবার্তা পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। উন্নত ডিজিটাল হুমকির বিষয়ে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতেই এ বার্তা দেওয়া হয়েছে।
অ্যাপলের এই সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব ব্যবহারকারীকে ব্যক্তিগতভাবে স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে, তাদের সতর্ক ও সহায়তা করা। এ ধরনের হামলা সাধারণ সাইবার অপরাধের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। হামলাকারীরা নির্দিষ্টসংখ্যক ব্যক্তি ও তাদের ব্যবহৃত যন্ত্রকে লক্ষ্য করে বিপুল অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করে।
অ্যাপল জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা পরিচালনায় লাখ লাখ ডলার খরচ হতে পারে। আবার এসব স্পাইওয়্যার অনেক সময় খুব বেশি সময় সক্রিয়ও থাকে না। ফলে এগুলো শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, অধিকাংশ ব্যবহারকারী জীবনে কখনো এ ধরনের হামলার মুখোমুখি হবেন না। অ্যাপলের মতে, নাগরিক সমাজের সংগঠন, সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সাংবাদিকদের প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের উচ্চ ব্যয়ের ব্যক্তিকেন্দ্রিক সাইবার হামলার সঙ্গে সাধারণত রাষ্ট্রীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকে।
সরকারের হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের স্পাইওয়্যার তৈরি করে থাকে। এর মধ্যে এনএসও গ্রুপের বহুল পরিচিত পেগাসাস অন্যতম। সাধারণত সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকদের মতো অল্পসংখ্যক মানুষ এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হন। তবে এ ধরনের হামলা বিশ্বজুড়ে নিয়মিত ঘটছে।
অ্যাপলের সতর্কবার্তা পেলে ব্যবহারকারীদের নিজেদের অ্যাকাউন্ট ও যন্ত্রের নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ‘লকডাউন মোড’ চালু করা অন্যতম। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে অ্যাপল। এ ক্ষেত্রে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেস নাও পরিচালিত ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি হেল্পলাইন’ থেকে সার্বক্ষণিক জরুরি নিরাপত্তা সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ নিরাপত্তা হালনাগাদ পেতে যন্ত্রের সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখতে হবে। পাশাপাশি পাসকোড, ফেস আইডি বা টাচ আইডি ব্যবহার করে যন্ত্র সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাপল অ্যাকাউন্টের জন্য শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি দ্বিস্তরীয় পরিচয় যাচাই চালু করার পরামর্শ দিয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য ‘চুরি হওয়া যন্ত্র সুরক্ষা’ সুবিধাও চালু করা যেতে পারে। যেখানে সুবিধাটি রয়েছে, সেখানে পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে পাসকি ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের স্টোর থেকে সরাসরি অ্যাপ ইনস্টলের অনুমতি দেয় না। তাই ব্যবহারকারীদের শুধু অ্যাপ স্টোর থেকেই অ্যাপ নামানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
/অ